নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে পুত্রবধুর পরিকল্পনায় শাশুড়ি খুন হওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন, ০৩জন আসামী গ্রেফতার এবং ০২ জনের বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকার
আনিছুর রহমান (৭০) (মামলার বাদী), পিতা-মৃত আঃ ছামাদ, সাং-পিরুজালী (মধ্যপাড়া), থানা-জয়দেবপুর, জেলা-গাজীপুর। সে জয়দেবপুর থানাধীন পিরুজালী হাজীপাড়া সাকিনস্থ “গাজীপুর উন্নয়ন সংস্থা (গ্যাস)” নামক প্রতিষ্ঠানে পিয়ন পদে এবং তার ছেলে মোঃ নাজমুল সাকিব (২৮) জয়দেবপুর থানাধীন পিরুজালী মধ্যপাড়া সাকিনস্থ পিরুজালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী পদে দীর্ঘদিন যাবৎ চাকুরি করে আসছে। গত ০৭-০৪-২০২৬ খ্রি. রাত আনুমানিক ২১:০০ ঘটিকায় বাদীর স্ত্রী আছমা আক্তার (৫৫) ও তার পুত্রবধু আরিফা আক্তার উর্মি (২২) এবং তার নাতী ইসরাফিল ইসলাম আয়ান (০৪) গণদের নিজ বাসগৃহে রেখে পিতা-পুত্র নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে যায়।
গত ০৮-০৪-২০২৬ খ্রি. সকাল আনুমানিক ০৬:৫৫ ঘটিকায় বাদীর ছেলে মোঃ নাজমুল সাকিব (২৮) কর্মস্থল হতে বসত বাড়ীতে এসে দেখে, ঘরের বারান্দার গেটের তালা নেই এবং গেট চাপানো অবস্থায় ছিল। সে বসত ঘরে প্রবেশ করে দেখে যে, তার স্ত্রী আরিফা আক্তার উর্মি (২২) তাহার শয়ন কক্ষে থাকা কাঠের তৈরী খাটের পূর্ব পার্শ্বে পায়ার সাথে হেলান দিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে এবং তার দুই হাত, দুই পা ও চোখ-মুখ তার ব্যবহৃত দুইটি ওড়না দ্বারা বাঁধা অবস্থায় ছিল। সে স্ত্রীকে ডাকাডাকি করে কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে তার মা আছমা আক্তার (৫৫) এর শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে দেখে যে, ঘরে থাকা বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়ানো ছিটানো এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। তার মা উপুড় হয়ে শোয়া অবস্থায় রয়েছে। সে তার মা’কে ডাকাডাকি করে কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে ডাক-চিৎকার করলে আশে-পাশের লোকজন এসে আছমা আক্তার (৫৫)’কে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো এবং তার স্ত্রীর শয়ন কক্ষে থাকা স্টীলের তৈরী সিন্দুকের তালা খোলা ছিল। উক্ত সিন্দুকে রক্ষিত নগদ ৩,৯৫,০০০ টাকা, ০১ভরি ১২আনা ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকারসহ মোট ৪,২০,০০০ টাকা এবং তার স্ত্রীর ব্যবহৃত একটি Symphony ব্র্যান্ডের বাটনযুক্ত মোবাইল ফোন (০১৭৮৮৬৩১১৮১) যার মূল্য আনুমানিক ১,৫০০ টাকা চুরি যায়। এ ঘটনায় বাদীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জয়দেবপুর থানার মামলা নং-১২, তারিখ: ০৮-০৪-২০২৬খ্রি., ধারা: ৩০২/৩৮০/৪৫৭/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
জয়দেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করতঃ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজীপুর হতে লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে। পুলিশ সুপার গাজীপুর এর নির্দেশনা ও সার্বিক তদারকিতে জয়দেবপুর থানার একটি চৌকস আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে সন্ধিগ্ধ আসামী ১। মোঃ উজ্জ্বল (৪৬), পিতা-মৃত আব্দুল মান্নান, গ্রাম-আলিমপাড়া, পিরুজালী, থানা-জয়দেবপুর, জেলা-গাজীপুর, ২। মোছাঃ শাহনাজ বেগম (৪৫), পিতা-মৃত নুরুল ইসলাম, সাং-পিরুজালী (আলিমপাড়া), থানা-জয়দেবপুর, জেলা-গাজীপুর গ্রেফতার করে। তাদের ০২জনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আনিছুর রহমান (বাদী) এর ঘরে থাকা টাকা এবং স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করার জন্য পুত্রবধু আসামী ৩। আরিফা আক্তার উর্মি (২২), স্বামী-মোঃ নাজমুল সাকিব (২৮), সাং-পিরুজালী মধ্যপাড়া, থানা-জয়দেবপুর, জেলা-গাজীপুর এর পরিকল্পনায় এবং আসামী মোছাঃ শাহনাজ বেগম (৪৫) এর প্ররোচনায় ও ইন্ধনে ০৩জন মিলে ভিকটিমকে ঘুমের ঔষুধ খাইয়ে, গলায় গামছা পেছিয়ে এবং মুখ চেপে ধরে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। ঘটনাকে ডাকাতি হিসেবে সাজানোর জন্য আসামী মোঃ উজ্জ্বল (৪৬) পুত্রবধু আসামী আরিফা আক্তার উর্মি (২২) এর হাত-পা ও চোখ-মুখ ওড়না দিয়ে বেধে রাখে। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ উজ্জ্বল (৪৬) এর নিকট থেকে চোরাইকৃত Symphony বাটন ফোন, নগদ ৪৩,০০০ টাকা, আসামী আরিফা আক্তার উর্মি (২২) এর নিকট থেকে ০১ টি স্বর্ণের আংটি, ০১ জোড়া কানের ঝুমকা, ০১ টি স্বর্ণের চেইন, ০১টি স্বর্ণের হাতের বালা মোট ০১ভরি ০৮ আনা স্বর্ণালংকারসহ নগদ ১,৪৬,৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। উল্লিখিত ০৩জন আসামীকে অদ্য ০৯-০৪-২০২৬খ্রি, বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। আসামী ১। মোঃ উজ্জ্বল (৪৬) এবং ২। আরিফা আক্তার উর্মি (২২) ঘটনার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে। আসামী মোঃ উজ্জ্বল (৪৬) এর নামে ইতোপূর্বে টঙ্গী পূর্ব থানা (জিএমপি) এর মামলা নং-০৩, তারিখ: ০২-০-২-২০২১খ্রি. ধারা: ৩৭৯/৪১১ পেনাল কোড রুজু আছে। মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন।