মোঃ আব্দুল বাতেন বাচ্চু,
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের শ্রীপুরে অস্ত্রসহ এক ব্যবসায়ীকে আটক কেন্দ্র করে র্যাব সদস্যদের অবরুদ্ধ রাখার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন র্যাবের এক ওয়ারেন্ট অফিসার।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বরমীর বরামা ডুলি পাড়া এলাকায় মোশারফ হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে অস্ত্র আছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেলে অভিযান চালানো হয়। এসময় তাকে একটি রিভলভারসহ হাতেনাতে আটক করে র্যাব উত্তরা ক্যাম্পের সদস্যরা।
কিন্তু মোশারফকে গাড়িতে তোলার সময় স্থানীয়রা বাধা দেন। তাদের অভিযোগ, মোশারফকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। একপর্যায়ে স্বজন ও আশপাশের লোকজন র্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তার একান্ত প্রচেষ্টা ও পুলিশের তাৎক্ষণিক ভূমিকার ফলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
রোববার বিকেল সাড়ে ৬টা থেকে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পুরো বরমী এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ঘরে অবস্থান করে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা যোগ দিলে শ্রীপুর থানা পুলিশ ও সেনা সদস্যরা যৌথভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। অভিযান শেষে র্যাব, দুই নারীসহ মোট ১৪ জনকে আটক করে।
সোমবার দুপুরে আটককৃতদের শ্রীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় থানায় দুটি মামলা হয়, একটি অস্ত্র আইনে, অন্যটি সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে। মামলায় আটক ১৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া আরও আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০০–১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, বরমীর ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পলাতক আসামি দের কে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ প্রশাসনের মতে, এ ঘটনায় ওসি আব্দুল বারিকের দ্রুত পদক্ষেপ ও নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়।