মোঃ আব্দুল বাতেন বাচ্চু,
বিশেষ প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে দলবলসহ মাথায় লাল কাপড়,হাতে রাম দা নিয়ে মহড়া ও মাইকে প্রকাশ্যে চাঁদা চাওয়ার ঘটনায় ভাইরাল সেই যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম পিন্টুকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। আটক ওই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ সাতটি মামলা রয়েছে
বুধবার পিন্টুকে পুলিশে সোপর্দ করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং গাজীপুর জেলা বিএনপির ১নং যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
আটক জাহাঙ্গীর আলম পিন্টু (৩৬) উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি শ্রীপুর উপজেলা যুবদলের আহআয়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে যুবদল থেকে বহিস্কার করা হয়।
স্থানীয় সুত্র ও বিএনপি নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকেই তেলিহাটি ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে বসে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। সেসময় তিনি খবর পান যে, সাত মামলার আসামী ও দল থেকে বহিস্কৃত যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম এলাকায় উদ্দেশ্যমূলক ভঙ্গিতে ঘুরাঘুরি করছে। এমন খবরে তিনি নেতাকর্মীদেরকে জাহাঙ্গীর সম্পর্কে খোঁজ নিতে বলেন। তাঁদের দেখা মাত্রই দৌড়াদৌড়ি শুরু করে ওই যুবদল নেতা। একপর্যায়ে তাকে ধরে এনে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
সুত্র আরও জানায়, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যুবদলের নাম ব্যবহার করে বেপরোয়া হয়ে উঠে জাহাঙ্গীর আলম পিন্টু। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি অর্ধশত লোকের দলবলসহ মাথায় লাল কাপড়,হাতে রাম দা নিয়ে মহড়া ও মাইকে প্রকাশ্যে চাঁদা চাওয়ার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরপরই যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে বহিষ্কার করে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক, চাঁদাদাবি, মাদকসহ সাতটি মামলা রয়েছে। গত মঙ্গলবারও একটি শিল্প কারখানায় দলীয় পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করাসহ দলীয় পদপদবী ব্যবহার করে নানা অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক জানান,’ বেশ কয়েকটি মামলায় জাহাঙ্গীর আলম পিন্টু আত্মগোপনে ছিল। বুধবার বিএনপি নেতার মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তার নামে শ্রীপুর থানায় বিস্ফোরক, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ সাতটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ‘
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপি’র ১নং যুগ্ন-আহবায়ক অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন,’ বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্মে জড়িত হলে তাঁকে বিন্দু পরিমান ছাড় দেয়না দলের নীতিনির্ধারকেরা। এটা আমাদের নেতা তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আর ব্যক্তির অপরাধ দল নিবেনা, এমন নীতির বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত। আর অপরাধী যে দলেরই হোক না কেনো, সামাজিক ভাবে তাকে বয়কট করার পাশাপাশি আইনের আওতায় তুলে দিন। সন্ত্রাস,চাঁদাবাজ, মাদক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় বর্তমান বিএনপির রাজনীতির একমাত্র উদ্দেশ্য। আগামীর বাংলাদেশ হবে শান্তির ও মানবতার।