নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের শ্রীপুরে টয়লেট পরিষ্কারের হারপিক পানে কাকলি আক্তার নামে এ গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে!
বুধবার (১৩ই মার্চ) সকালের দিকে গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই গৃহবধূ। এরআগে, গত শনিবার টয়লেটের হারপিক পান করেন কাকলি আক্তার।
নিহত কাকলি আক্তার নেত্রকোনা জেলার বানিয়াজান পূর্ব পাড়া এলাকার আলী আক্কাস তালুকদারের মেয়ে এবং শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের বাবুল হোসেন লাবলুর স্ত্রী।
নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল জানায়,
আনুমানিক ১০ বছর আগে শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা এলাকার নারায়ণপুর গ্রামের বাবুল হোসেন লাবলুর সাথে বিয়ে হয় কাকলি আক্তারের। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুটো সন্তান জন্ম লাভের পর উভয়ের সম্মতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরে কাকলি আক্তার অন্যত্র বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। এদিকে, বাবুল হোসেন লাভলুও অন্য একজনকে বিয়ে করে তাদের সংসার চালায়। কিছুদিন পর বাবুল হোসেন লাভলুর দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে মনমালিন্য হলে কাকলির সাথে যোগাযোগ শুরু করেন লাবলু। একপর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে পূনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। গত সপ্তাহে দ্বিতীয় সংসারের সন্তানের সাথে দ্বন্দ্ব হয় কাকলি আক্তার। সেসময় তাকে মারপিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে স্বামী লাবলুর কাছে বিচার দাবি করেন কাকলি। বিচার না পেয়ে কাকলির স্বামী লাবলুর সাথে মনোমালিন্য চলছিল তার। এরই জের ধরে অভিমানে গত শনিবার সকালের দিকে টয়লেটের হারপিক পান করেন কাকলি আক্তার। এতে সে অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে কাপাসিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালের দিকে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাকলিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামান যায়যায়দিনকে বলেন,” খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত হচ্ছে। নিহতের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ চলমান “।