মোঃ আব্দুল বাতেন বাচ্চু,
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে জনগণের দোরগোড়ায় সহজে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) চালু করেছে সরকার। সেখান থেকে নাগরিকরা সহজে তাদের বিভিন্ন তথ্য ও নাগরিক সেবা পেয়ে থাকেন।আর এই ডিজিটাল সেন্টারেই চলে স্মার্ট জালিয়াতি।
এমন জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে গাজীপুরের শ্রীপুরে গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্দোক্তা আকতার হোসেন ও তার সহকারি ইমরানের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত আক্তার হোসেন উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের হায়াত খার চালা এলাকার আজিম উদ্দিনের ছেলে।সে গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদে এক যুগের বেশি সময় ধরে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে আসছেন। অপর অভিযুক্ত ইমরান মাহমুদ উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের গোসিংগা গ্রামের জিল্লুর রহমান (জুলু) ছেলে।সে ২ বছর যাবত গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদে উদ্দোক্তার সহকারী হিসেবে কাজ করছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও ইউনিয়ন পরিষদ সুত্রে জানাযায়, কোন সেবা প্রার্থী যদি ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম সনদ, জাতিয় পরিচয়পত্র সহ যে কোন ধরনের সেবা নিতে আসেন,তখন তারা সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ বিভিন্ন কাগজপত্রে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ঝাল করে ডিজিটাল অ্যাপসের মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে হয়রানি করে থাকেন।
এই বিষয়ে নারায়ণপুর গ্রামের ভুক্তভোগী আলম বলেন,তার জাতীয় পরিচয়পত্রে মায়ের নাম ভুল থাকায় তা সংশোধন করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের গেলে উদ্দোক্তা আকতার হোসেনের সহকারী ইমরান জানায় নিয়ম অনুসারে তাকে আবেদন করতে হবে এবং এর জন্য তিন হাজার টাকা লাগবে। তার কথামতো আবেদন করে তাকে আড়াই হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এবং আইডি কার্ড আসতে এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানায়। পরবর্তী এক সপ্তাহ পরে আইডি কার্ড সংশোধন হয়েছে বলে আমাকে নতুন একটি আইডি কার্ড প্রদান করা হয়। আমার প্রয়োজনে আইডি কার্ডটি অনলাইনে চেক করলে দেখা যায় পূর্বের ভুলটি রয়ে গেছে। পরে বিষয়টি আমি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে অবগত করেছি।
পার্শ্ববর্তী চাওবন গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের সাথেও ঘটে একই ঘটনা। দেলোয়ার হোসেন তার ছোট বোন রোকসানার একটি জাতীয় পরিচয় পত্র স্থান পরিবর্তন এর জন্য আবেদন করেন। স্থান পরিবর্তন এর জন্য দেলোয়ারের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা নেয় ইমরান। পরবর্তী এক সপ্তাহ পরে স্থান পরিবর্তন করে নতুন একটি আইডি কার্ড প্রদান করা হয় দেলোয়ারকে। কিছুদিন পরে নিজের প্রয়োজনে আইডি কার্ডের নাম্বারটি ব্যবহার করতে গেলে অনলাইনে এটিও আগের ঠিকানা রয়েছে বলে জানা যায়। দেলোয়ার হোসেন বলেন, নিয়ম অনুসারে আবেদন করে টাকা দিয়েছি। তারপরেও আমার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। এরকম প্রতারকদের উপযুক্ত বিচার হওয়া দরকার।
খুঁজে খানি গ্রামের লালচানের মেয়ে লামিয়া আক্তার জন্ম সনদের জন্য গেলে তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে জন্ম সনদ প্রদান করেন। অনলাইনে এটিরও কোন অস্তিত্ব মেলেনি। একই গ্রামের ইদ্রিস আলীর সাথে ঘটে একই ঘটনা।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত ইমরান বলেন, আমি ইউনিয়ন পরিষদের মূল উদ্যোক্তা আখতার হোসেনের কম্পিউটার সহকারী হিসেবে ছিলাম। আমি কমিশনের মাধ্যমে কাজ করেছি। আমাকে হাজারে ২০০ টাকা দেওয়া হতো। আখতার ভাই যেভাবে কাজ করতে বলেছে আমি সেভাবেই কাজ করেছি। এটার বৈধ অবৈধ আমার জানা নেই।
ইউনিয়ন পরিষদের মূল উদ্যোক্তা আখতার হোসেন বলেন, পরিষদে কন্টাকের মাধ্যমে দুজন উদ্যোক্তা রয়েছে, আর বাকি সবগুলি আমার মাধ্যমে কাজ করতো। তাদের এই সব অনৈতিক কাজের বিষয়ে আমার জানা ছিল না। যখন তার অনৈতিক কাজের কথা জানতে পেরেছি তখন থেকে তাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাইদুর রহমান শাহিন বলেন, তিনি নিয়মিতভাবে ইউনিয়নবাসীর সব রকমের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে স্বাক্ষর করে আসলেও বেশ কিছুদিন ধরে ইমরান তার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া কাগজপত্র সরবরাহ করছেন। স্বাক্ষর জালের বিষয়টি আমি পরিষদের সচিবের কাছে জানাত পেরেছি।এর পর থেকে অভিযুক্ত ইমরানকে পরিষদ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।এ বিষয়ে ইমরান আক্তারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে অভিযোগ প্রমাণ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।