মো: আব্দুল বাতেন বাচ্চু,
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন সারদাগঞ্জ এলাকায় দুই ছেলের হামলায় আহত হওয়ার দুইদিন পরে বাবা ওসমান গণি (৭০) সোমবার রাতে মারা গেছেন।
মঙ্গলবার সকালে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে সফিকুল ইসলামের মামলা দায়েরের পরে মঙ্গলবার দুপুরে ওই ঘটনায় জড়িত অপর দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত মো. ওসমান গনি, গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন সারদাগঞ্জ হাবিব মার্কেট এলাকার বাসিন্দা এবং গ্রেপ্তাররা হলো তার দুই ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩০) ও মাহবুবুল ইসলাম (৩৪)।
এলাকাবাসী, নিহতের স্বজন ও পুলিশ জানায়, কাশিমপুর থানাধীন সারদাগঞ্জ হাবিব মার্কেট এলাকার বাসিন্দা মো. ওসমান গনির ছোট ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩০) বেশ কিছু দিন ধরেই মাদকাসক্ত ছিল। শরিফুল মাদক সেবনের জন্য বিভিন্ন সময়ে তার বড় ভাই সফিকুল ও তার পিতাসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রায়ই টাকা চাইতো। টাকা না দিলে ঝগড়া শরিফুল তাদের সঙ্গে বিবাদ করতো।
ইতোপূর্বেও টাকা না পেয়ে সে তার বাবা ওসমান গনির ঘর থেকে ফ্রিজ, আইপিএস, টিভিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পরিবারের সদস্যদের বিক্রি করে দেয়। গত শনিবার (১৮ জুন) আবারো সে তার বাবার কাছে কিছু টাকা দাবি করে কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করেন ওসমান গণি। পরে ওইদিন রাত পৌনে ১১ টার দিকে সারদাগঞ্জ রাইস মিলের পাশে হাবিব মার্কেটের সামনে ছেলে শরিফুল ইসলাম তার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল।
এসময়ে সেখানে গিয়ে শরিফুলের কাছে তার বাবা ওসমান গনি জানতে চান কেন সে ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করে দিয়েছে। এনিয়ে তখন বাবা ও ছেলের মধ্যে সেখানে বাকবিতন্ডা হয়।
এক পর্যায়ে মাদকাসক্ত ছেলে শরিফুল ও অপর ছেলে মাহবুব ইসলাম লাঠিসোটা নিয়ে তার বাবাকে এলোপাথারীভাবে মারধর শুরু করে। এসময় লাঠি দিয়ে তারা বাবা ওসমানগনির মাথায় আঘাত করতে গেলে আঘাত তার বাবার বাম চোখের উপরে লাগে এবং রক্তাক্ত জখম হয়।
পরে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে গাজীপুর শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালের আইসিওতে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে গত সোমবার রাতে স্বজনরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে আনার পর রাত দুইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের বড় ছেল সফিকুল ইসলামের স্ত্রী আইনজীবী রোমানা সফিক দেশ টিভি বাংলা কে বলেন, আমরা গাজীপুর শহরের বসবাস করি। তাকে (শ্বশুড়) গত সোমবার দিবাগত রাতে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে আসার পর রাত আনুমানিক ২ টার দিকে তার মৃত্যুর সংবাদ পাই।
সফিকুল ইসলাম জানান, ছোট ভাই শরিফুল বেকার, সে স্থানীয় মাদক সেবীদের সঙ্গে মেলামেশা করার পর সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। সম্প্রতি মাদকের জন্য টাকা না দেয়ায় চুরি করে ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে দিয়েছে। এসব বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলেই সে তাকেসহ তার বাড়ির লোকজনদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধোর করে। শনিবার রাতে তার পিতাকে শরিফুল ও মাহবুব দুইজনে মিলে মারধোর করেছিল। সেদিন লাঠির আঘাতে ওসমান গণির শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। তার চোখে রক্ত জমাট বেঁধেছিল এবং চোখের পাশের হাড়ও ভেঙ্গেছিল বলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানায় পুলিশ।
কাশিমপুর থানার ওসি সৈয়দ রাফিউল করিম দেশ টিভি বাংলা কে বলেন, তার পিতাকে মারধোরের পর ছেলেরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে নিয়েছিল। যার কারণে আগের ঘটনায় মামলা হয়নি। মঙ্গলবার সকালে নিহতের বড় ছেলে সফিকুল ইসলামের মামলা দায়েরের পর দুপুরে বাবা হত্যায় জড়িত থাকার ঘটনায় সারদাগঞ্জ এলাকা থেকে তার দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লাশের ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।