শ্রীপুর,গাজীপুর, প্রতিনিধি:
শ্রীপুরে বন-কর্মকর্তাদের হামলার শিকার জিতু লালের পরিবার, জড়িত স্থানীয় একটি মহল
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলাধীন গোসিংগা ইউনিয়নের পেলাইদ খাসপাড়া এলাকায় দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসা হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারকে বসতবাড়ি থেকে বন বিভাগ কর্তৃক উচ্ছেদ অভিযানে ব্যাপক ভাংচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় সাড়ে তিনলক্ষ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী স্থানীয়দের।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে শ্রীপুর রেঞ্জ এর আওতায় গোসিংগা বিট অফিসের দ্বায়িত্বরত ফরেষ্টার —ও সহকারী গার্ড আশরাফ এর নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে ব্যাপক ভাংচুর করে। একপর্যায়ে এলাকার সাধারন জনগন তাদেরকে বাঁধা দিলে ধাওয়া পাল্টা দাওয়ার ঘটনা ঘটে। অবস্থা আশঙ্কা জনক মনে করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় তারা দূত ঘটনা স্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনা সুএে জানাযায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এসমস্ত হতদরিদ্র সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয় সাথে ভোগদখলী সরকারী খাসের জমি। এতে পকেট ভারি হচ্ছে বন কর্মকর্তাদের। আর এই সকল কাজ সালাম শেখ, জব্বার মৃদা, মান্নান সহ এলাকার স্থানীয় কিছু লোক জরিত আছে বলে দাবি ঐ পরিবারটির। ভুক্তভোগী জিতু-লাল (মুচি)সাংবাদিকদের জানান, জব্বার মৃদা প্রায় একশত বছরের রাস্তা কেটে বনের জায়গার উপর সরিয়ে তার প্রজেক্টের জন্য নতুন রাস্তা তৈরি করে।
এছাড়াও সে যে প্রজেক্টটি তৈরি করছে সেটি অন্য পার্টির নিকট বিক্রি করবে মর্মে আমাদের বসত ভিটা দখলের পায়তারা করে আসছিলেন বহুদিন থেকে।তাছাড়া সে যে স্থানে বসবাস করছে সেটিও কালেক্টরি খাস। অথচ ফরেসটার গার্ডরা কিছুই বলছে না তাদের। জিতু লাল আরও বলেন, আমার একটি মাএ ঘর, ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকা অনেক কষ্ট হতো। তাই আমার ছেলে মেয়ে থাকতো মানুষের বাড়িতে। এখন মেয়েটা বড় হয়েছে, বিয়ে দিতে হবে। তাই আমার আগের পুরানো ঘরটা সংস্কারের জন্য জায়গা খালি করে ঘর তৈরি করেছিলাম। কিন্তু তারা টাকা খেয়ে আমার ঘর ভেঙে দেয়। বাংলাদেশের নাগরীক হয়েও সরকারী জায়গায় শান্তিতে বসবাস করতে পারছিনা।আমরা নিরিহ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষগুলো জব্বারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ । যেখানে রোহিঙ্গাদের স্থান হয়েছে এদেশের মাটিতেই সেখানে কেনো আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও সরকারি জায়গায় একটু আশ্রয় পাবোনা।
স্থানীয়দের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, আশরাফ গার্ডের কিছু ফরমা আছে যারা মানুষের কাছথেকে ঘর উঠানোর কথা বলে কিংবা কোন জায়গার উপর ঘর উঠানোর জন্য টাকা লেনদেন করে থাকে। কেউ যদি তাদের চাহিদা মতো টাকা দিতে অপরাগ হয় তাহলে তাদের নামে মিথ্যা বন-মামলা দিয়ে জেলে পাঠায়। এ অবস্থায় আমরা বেশ আতঙ্কে জীবনযাপন করছি।
এবিষয়ে শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা বজলুর রহমানকে মটোফোনে কল করে পাওয়া যায়নি।