নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের শ্রীপুরে চোরাই পথে পাচারের সময় সরকারি সার বোঝাই একটি পিকআপ আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নিজমাওনা গ্রামের মাক্কির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও উপস্থিত লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাচারের উদ্দেশ্যে একটি পিকাপ ভর্তি করে সার নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র এমন খবরে ওই রাস্তায় বেরি কেট দেয় স্থানীয় জনতা। এসময় নিল রঙের পলিথিন দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় একটি পিকাপ ( ঢাকা মেট্রো-ন ১৯-১৮২৬) আটক করা স্থানীয়রা। পরে গাড়িতে ৮০ বস্তা ডিএপি সার পাওয়া যায়। এসময় উপস্থিতি টের পেয়ে এর চালক দৌড়ে পালিয়ে যায়। জনতা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, স্থানীয় ডিলার আফির উদ্দিন ও জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের তকতারচালা এলাকায় এসব সার পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে পুলিশকে জানানো হলে তারা এসে গাড়িসহ সার থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন,’ ওই দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাদ্যের ডিলার পেয়ে নানা অনিয়ম করে যাচ্ছে। যখন যেদল আসে সেসময়কার রাজনৈতিক ছত্র ছায়ায় থাকা তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ ফুটে কথা বলতে পারে না।’
এ বিষয়ে গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুবকর সিদ্দিক বলেন, রাতে স্থানীয় ডিলার আফির উদ্দিনের লোকজন আমার কাছে এসেছিল বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার জন্য। যেহেতু সরকারি সার সেখানে আমরা কথা বলতে পারি না। একটি চক্র কৃষকদের জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে সরকারি সার পাচারের চেষ্টা করে । উপস্থিত জনতার সহায়তায় গাড়িটি পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা তদন্ত করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।
মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, ‘৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সার ও পিকআপ জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। রাতেই ওসি স্যারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে। উনারাই আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।’
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন,’ সংবাদ পেয়ে ইউএনও স্যারসহ আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে পিকাপে রাখা ডিএপি সার পাওয়া যায়। স্থানীয় জনতা “মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ” নামের ডিলার এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা বলছিল। আমরা খোঁজ খবর নিয়ে অপরাধ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আমি থানায় এজাহার দিয়েছি।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন,’ বিষয়টি কৃষি অফিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। তাদের দেওয়া এজাহারের ভিত্তিতে এ ঘটনায় মামলা চলমান।’
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজিব আহমেদ দেশ টিভি বাংলা কে বলেন,’রাতেই ওই ডিলারের গোডাউন পরিদর্শন করে সেখানে রাখা সার কেনাবেচা ও অবশিষ্ট বস্তুার পরিবার যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সেখানের মাল পরিমান মতোই ছিলো। কিন্তু সারের বস্তা গুলো কোত্থেকে এলো আমরা খতিয়ে দেখবো। ইতোমধ্যে উপজেলার সকল ডিলারের গোডাউনে আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’